রবিতে কল ও ইন্টারনেট ব্যবহার খরচ বেড়েছে ৮ শতাংশ

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৭  
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির অনাপত্তি পত্র দেওয়া বন্ধের ফলে মোবাইলে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বিরাজমান সমস্যার কারণে রবির প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আটকে গেছে। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে রবির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব তথ্য তুলে ধরেন অপারেটরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম। বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আপত্তিতে বকেয়া পাওনা আদায়ে গ্রামীণ ফোন ও রবির জন্য ‘অনাপত্তি পত্র’ দেওয়া বন্ধের কারণে এই মূল্য বেড়েছে বলে জানিয়েছে অপারেটরটি। মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনাপত্তি পত্র (এনওসি) দেওয়া না হলে ভয়েস কলচার্জ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ আরও বাড়বে। তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে এনওসি দেওয়া বন্ধ থাকায় রবির ভয়েস কলচার্জ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়েছে। অপর অপারেটর গ্রামীণফোনের খরচও কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি জানান। গ্রামীণ ফোন ও রবির গ্রাহক সংখ্যা দেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের ৮০ শতাংশেরও বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিটিআরসির ‘প্রতিবন্ধকতা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক’ দাবি করে মাহতাব উদ্দিন বলেন, “এটা জনগণের জন্য ক্ষতিকারক এবং বিটিআরসির জন্যও ক্ষতিকারক।” বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, এ বছর বিনিয়োগ পরিকল্পনায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আর হবে না। এ বিনিয়োগ আর ফিরে আসবে না। ১৫০ মিলিয়ন ইমপোর্ট করলে এর ট্যাক্স ডিউটি দাঁড়াত ১৫ মিলিয়ন ডলার বা ১২৫ কোটি টাকা। “এখানে সরাসরি এনবিআর ‘লস’ করছে। এখানে যন্ত্রপাতি আনলে বিনিয়োগ করলে টাওয়ার স্থাপনের মাধ্যমে রাজস্ব আয় হত, সেখান থেকে আমরা ৫০ শতাংশের বেশি সরকারকে দিয়ে থাকি। বিটিআরসি ও এনবিআর দুজনেই এর ভাগীদার। এ রাজস্ব তারা হারাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে মাহতাব উদ্দিন বলেন, রবি শুরু থেকে বলে আসছে বিটিআরসির অডিট আপত্তি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। এছাড়া পাবলিক রিকভারি অ্যাক্টও প্রয়োগ করা যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, অডিটে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যেগুলো কোনও যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, বিটিআরসির সিদ্ধান্ত আসলে অপারেটর নয় দেশের জনগণের বিরুদ্ধে গেছে। জনগণ মোবাইলের মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগামীতে সেবার মান আরও খারাপ হতে পারে। এনওসি বন্ধের ফলে অপারেটরটি (গ্রামীণফোনও) যন্ত্রপাতি কিনতে পারছে না, সরবরাহ নিতে পারছে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও অনেকাংশে সেবা নিতে পারছে না। মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। আমরা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবো। হেরে গেলে কী করবেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রবির বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারে। এর এখতিয়ার শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের। রবির এখানে কোনও ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগ বাস্তবসম্মত নয়, আর এ ধরনের সমস্যা হলে কোনও কোম্পানি দেশ ছেড়ে চলে যাবে সেটাও বাস্তবসম্মত নয়।